আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখি অন্য কারো মুখ, সত্যের চেয়ে মিথ্যে শান্তিতেই আমরা খুঁজি সুখ। যে আলো চোখে বিঁধে, তাকে আমরা অন্ধকার বলি, তাই চেনা মিথ্যের গলিতেই আমরা বারবার চলি। আমাদের পাহাড়ের ওপাড়ে একটা বিশাল লেক ছিল। ছোটবেলায় যখন লেকের পাড়ে দাঁড়াতাম, দেখতাম ওপরের আকাশটা হুবহু জলের নিচে দেখা যাচ্ছে। জল এতোটাই স্বচ্ছ ছিল যে তলার পাথরগুলোও গোনা যেত। কিন্তু আমরা যখনই ঢিল ছুড়তাম, সেই স্বচ্ছতা হারিয়ে যেত। কাদা উঠে আসত নিচ থেকে। আমাদের মনটাও ঠিক এই লেকের মতো। আমরা ওপরের সুন্দর আকাশটা দেখতে ভালোবাসি, কিন্তু গভীরে জমে থাকা কাদা বা সত্যগুলো দেখতে ভয় পাই। মনোবিজ্ঞান একে বলে 'কনফার্মেশন বায়াস'। আমাদের মস্তিষ্ক খুব অলস। সে কেবল সেই তথ্যগুলোই গ্রহণ করতে চায় যা তার আগের ধারণার সাথে মিলে যায়। আপনি যদি বিশ্বাস করেন পৃথিবী খারাপ, তবে আপনার চোখ কেবল খারাপ খবরগুলোই খুঁজে নেবে। সত্য যদি আমাদের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যায়, তবে আমাদের মস্তিষ্ক সেটিকে 'বিপদ' হিসেবে গণ্য করে। তাই আমরা সত্যকে এড়িয়ে চলি, কারণ সত্য মানেই হলো নিজের ভুল স্বীকার করা, যা আমাদের ইগো বা অহংবোধের জন্য খুব যন্ত্রণাদায়ক। দার্শনিক প্লেটো আড়াই হাজার বছর আগে একটি গুহার রূপক দিয়েছিলেন। গুহার ভেতরে কিছু মানুষ শিকল দিয়ে বাঁধা, তারা কেবল দেয়ালের ছায়া দেখে অভ্যস্ত। তাদের কাছে ওই ছায়াগুলোই সত্য। কিন্তু যদি কেউ শিকল ছিঁড়ে বাইরে গিয়ে আসল সূর্য দেখে ফিরে আসে এবং তাদের বলে যে ছায়াগুলো মিথ্যে—গুহার মানুষগুলো তাকে পাগল বলবে, এমনকি তাকে মেরেও ফেলতে চাইবে। আমরাও আমাদের তৈরি করা মিথ্যের গুহায় বাস করতে পছন্দ করি, কারণ বাইরের আলো আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। সত্য তিতা নয়, সত্য হলো সেই আলো যা আপনার গুহার শিকল ছিঁড়ে দেবে। নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনি কি ছায়া দেখে জীবন পার করতে চান, নাকি সূর্য দেখার সাহস রাখেন? আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।